একই সঙ্গে জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আর্থিক বিধিনিষেধ শিথিল, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত এবং ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান জটিলতা দূর করার দাবি জানিয়েছে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)।
সচিবালয়ে গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে জেবিসিসিআই পরিচালনা পর্ষদের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয় উঠে আসে। সংগঠনের সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়ার (জুন) নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি বৈঠকে অংশ নেয়।
বৈঠকে জেবিসিসিআই নেতারা জানান, গত ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। চুক্তিটির কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও শিল্প সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এ লক্ষ্যে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, যৌথ সেমিনার, বাজার প্রবেশাধিকার নির্দেশিকা, নতুন রফতানি খাত চিহ্নিতকরণ, এসএমই সহায়তা এবং নিয়মিত সরকার-বেসরকারি পরামর্শ কার্যক্রম পরিচালনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে সংগঠনটি।
তারেক রাফি ভূঁইয়া বলেন, ‘২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি একটি অনন্য দ্বিপক্ষীয় চেম্বার, যার পরিচালনা পর্ষদে বাংলাদেশী ও জাপানি নাগরিকদের সমান প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।’
জেবিসিসিআই মহাসচিব মারিয়া হাওলাদার বলেন, ‘ইপিএ শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়; বরং আগামী ৫০ বছরের জন্য বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি কৌশলগত কাঠামো। তবে চুক্তির আওতায় কোন কোন পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী মহলের কাছে বিস্তারিত তথ্য ও বাস্তবায়ন নির্দেশিকা তুলে ধরা প্রয়োজন।’
দেশে আরো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জেবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল হক বলেন, ‘জাপানি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা গেলে অন্য দেশের বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন।’ তিনি বিনিয়োগকারীদের জন্য সমন্বিত সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি পেশাদার সিঙ্গেল-উইন্ডো বিনিয়োগ সহায়তা সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দেন।
জেবিসিসিআই পরিচালক মানাবু সুগাওয়ারা দ্রুত ইপিএ অনুসমর্থন ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘চুক্তিটি স্বাক্ষর হলেও দুই দেশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পরই কার্যকর হবে। বাস্তবায়নের সময়রেখা, সুবিধার মেয়াদ ও পর্যালোচনা পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য ব্যবসায়ীদের পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক হবে।’